Film Archive

imhrauntor
3 Min Read

Film Archive

আর্কাইভে ছবি সংরক্ষণ

ফিল্ম আর্কাইভ হল চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জিনিস-ছবির প্রিন্ট, চিত্রনাট্য, স্থিরচিত্র, আবহ সংগীতের স্বরলিপি, সংলাপ ও সংগীতের ক্যাসেট ইত্যাদি এবং পরিচালক প্রমুখের রচনা ও ডায়েরির পাণ্ডুলিপি-সংরক্ষিত করে রাখার জন্য স্থাপিত আগার। আর্কাইভ গ্রন্থাগার ও মিউজিয়ামের এক সমন্বিত রূপ।

এর প্রাথমিক সূচনা ১৯১৩য় ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে, নাম ছিল রয়াল লাইব্রেরি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়মেও ফিল্ম লাইব্রেরি খোলা হয়। ১৯৩৫য়ে স্থাপিত ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ আর্কাইভের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রূপ। চলচ্চিত্র বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্কাইভের সাহায্য নেওয়া প্রথম শুরু হয় রাশিয়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর্কাইভের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে, ও এখন সমস্ত ফিল্ম স্কুলেই এর উপস্থিতি অপরিহার্য।

BFI National Archive

স্থানাভাবের জন্য সমস্ত ছবিকে সংরক্ষিত করে রাখা সম্ভব হয় না, ফলে বিশেষভাবে ছবি নির্বাচন করা হয়। যে সমস্ত ছবির অ্যাকাডেমিক/ঐতিহাসিক/শৈল্পিক/টেকনিক্যাল গুরুত্ব ও মূল্য রয়েছে এবং ফলে ছাত্র, গবেষক ও রসজ্ঞ দর্শকের প্রয়োজনে আসবে সেই সব ছবি আগে নির্বাচিত হয়। গ্রেট মাস্টার ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকদের ছবি অগ্রাধিকার পায়। বিশেষ বিশেষ দেশের আর্কাইভ ছবি নির্বাচনে ভৌগোলিকতা ও সামাজিক প্রসঙ্গকে, বিশেষ কোনো আর্কাইভ বিশেষ ধরনের ছবিকে (সংবাদচিত্র বা নৃতাত্ত্বিক ছবি বা অ্যানিমেশন বা বিজ্ঞান-বিষয়ক ইত্যাদি) প্রাধান্য দেয়। পৃথিবীর বৃহত্তম ফিল্ম আর্কাইভ হল ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ, যাদের সংগ্রহে ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরও বেশি ছবি রয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ হাজার দর্শকসাধারণকে প্রদর্শনের জন্য। ছবি সংরক্ষণ একই সঙ্গে অর্থ ও প্রযুক্তি সাপেক্ষ। তাপ-নিয়ন্ত্রিত ও ধুলোহীন ঘরে, রঙিন ছবি হলে Co আলোয়,-৪°C তাপমাত্রায়, ১৫% আপেক্ষিক আর্দ্রতায় এবং সাদা কালো ছবি হলে N১ আলোয়, ১৩°C তাপমাত্রায়, ৫৫% আপেক্ষিক আর্দ্রতায়, ছবি রাখা হয়। ঘরের দেয়ালে লাগানো হয় বিশেষ ধরনের ডিস্টেম্পার। নির্বাচন, নির্বাচিত ছবির উপযুক্ত কপি সংগ্রহ, সেই সব প্রিন্টের সংরক্ষণ, আগ্রহীদের জন্য তার তালিকা তৈরি ও প্রয়োজন মতো ছবির অতিরিক্ত প্রজেকশন-আর্কাইভের কাজ বহুমুখী। রচনা বা স্থিরচিত্রের তুলনায় চলচ্চিত্রের তথ্যমূলকতা ও ফলে তাতে ভবিষ্যতে ইতিহাস-রচনার উপাদান অনেক বেশি। তাই ছবি সংরক্ষণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে সরকারের জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভকে যথেষ্ট অর্থসাহায্য দেওয়া যেমন প্রয়োজন, বিভিন্ন জাতীয় আর্কাইভের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে সহযোগিতাও সমান

বাঞ্ছনীয়। এর জন্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফিল্ম আর্কাইভস (দ্র.) স্থাপিত হয়েছে (দ্র. ল্যাংলোয়া)। এম জি এম-এর মতো নামী প্রযোজক বা ইস্টম্যানকোডাকের মতো বড়ো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্কাইভের কথাও এখানে উল্লেখ্য। ভারতবর্ষের ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ স্থাপিত হয়েছে পুনেতে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রচলনের ফলে সম্প্রতি চলচ্চিত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সেলুলয়েডের তুলনায় ডিজিটালে ছবি অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে। বস্তুত ডিজিটিকৃত মাস্টারের সাহায্যে ছবিকে, বলতে গেলে, চিরকাল সংরক্ষিত করে রাখা যায়। সংরক্ষিত করে রাখা যায় একাধিক স্থানে (ক্লোন সাব-মাস্টারের সাহায্যে), যাতে অগ্নিকাণ্ড, বন্যা বা ডাকাতি কোনো কিছুই তাকে চিরতরে বিনষ্ট করতে না পারে। এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল রয়েছে। পুরোনো ছবি নিয়ে বিপুল বাণিজ্যও করা যাবে এর ফলে।

ফিল্মমেকার Habibur Rahman

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is Free!!